মূল বক্তব্য
“সত্য বলার পূর্বশর্ত হলো সত্য ভাবতে পারা। ভাবনা কেউ দেখতে পায় না, তবুও বেশিরভাগ মানুষ সত্য ভাবতে পারে না।”
আমরা প্রায়ই বলি—সত্য বলা কঠিন। কিন্তু সত্য বলার আগের ধাপটাই আরও কঠিন: সত্য ভাবা।
ভাবনা এমন এক জায়গা, যেখানে কেউ নজর রাখে না; নেই কোনো বাহ্যিক পুরস্কার বা শাস্তি—শুধু নিজের সঙ্গে নিজের মুখোমুখি হওয়া।
আর ঠিক সেই জায়গাতেই বেশিরভাগ মানুষ পরাজিত হয়।
মানুষ সত্য ভাবতে ভয় পায়। কারণ সত্য ভাবতে গেলে নিজের ভুল, দলের ভুল, কিংবা প্রিয় ব্যক্তির ভুল—সবকিছুর মুখোমুখি হতে হয়।
নিজের স্বার্থ, আরাম, ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ভেতর যে মিথ্যাগুলো বেঁচে থাকে, সেগুলোকে ভাঙতে হয়।
তাই অনেকেই মনে ভাবে—
“আমি তো কারও ক্ষতি করছি না, একটু নিজের মতো ভাবছি।”
কিন্তু ঠিক এই স্বাচ্ছন্দ্যময় মিথ্যাই ধীরে ধীরে সত্যবিমুখতার চর্চা হয়ে দাঁড়ায়।
সত্য ভাবা মানে নিরপেক্ষ যুক্তি ও বিবেকের সামনে দাঁড়ানো।
এটি কেবল বুদ্ধির কাজ নয়—এটি এক ধরনের নৈতিক সাহস।
কারণ যে মানুষ সত্য ভাবতে পারে, একদিন সে-ই সত্য বলার শক্তি অর্জন করে।
যে সমাজে মানুষ সত্য ভাবতে ভয় পায়, সেখানে সত্য বলা অপরাধ হয়ে যায়।
আর যে সমাজে সত্য ভাবাকে অভ্যাসে পরিণত করে, সেখানে ন্যায়ের ভাষা স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেয়। বলা হয়ে থাকে, যারা যারা মনে সব সময় সত্য ও ইতিবাচক ভাবনা পোষণ করেন, তাদের কিছু কিছু রোগে ভোগার আশঙ্কা থাকে না।
কিন্তু যে সমাজ সত্য ভাবতে চায় না—যেখানে মনে সবসময় অসৎ ভাবনা পোষণ করা হয়—সেখানে সত্য প্রতিষ্ঠা বড় কঠিন।
তবুও মনে রাখতে হবে, সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না।
একটি মিথ্যাকে ঢাকতে শতটি মিথ্যা বলেও শেষমেশ কুল পাওয়া যায় না।
একদিন না একদিন মিথ্যার আবরণ ভেদ করে সত্য প্রকাশ পায়ই।
তবু সমাজে কিছু মানুষ আছে, যারা জেনেশুনে মিথ্যা বলে—
উদ্দেশ্য, নিজের অসৎ কর্মকে ঢেকে রাখা।
তাৎক্ষণিকভাবে এতে মানসিক প্রশান্তি মিললেও, সারাজীবন সত্যের ফলাই তাকে দংশন করে বেড়ায়।
শেষপর্যন্ত মিথ্যা বলার পরিণাম তাকে অনিবার্যভাবে ভোগ করতেই হয়।
সুতরাং
সত্য বলা মানে কেবল মুখ খোলা নয়, বরং বিবেক জাগানো।
আর সেই বিবেকের প্রথম জাগরণ ঘটে ভাবনায়—
যখন কেউ একা নিজের মনে সত্য ভাবার সাহস করে।








Leave a Reply